1. editor@islaminews.com : editorpost :
  2. jashimsarkar@gmail.com : jassemadmin :

মুদি দোকানী থেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও কর বাহাদুর!

একসময় কিছুই ছিল না তার। দেশ স্বাধীনের আগে মুদি দোকানি হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। আর এখন- ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ব্যবসা, সেমাই তৈরির কারখানা, খাদ্য অধিদফতরের ডিলারশিপসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি ও তার পরিবার। কুড়িগ্রাম শহরের পুরাতন রেল স্টেশন (বর্তমানে বিলুপ্ত) এলাকার ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো. ময়েজ উদ্দিন সরকারের অনবদ্য জীবনগাথা এটি।

২০ টাকা দিয়ে আয়কর প্রদান শুরু করা এই ব্যবসায়ী কয়েক যুগ ধরে সরকারকে আয়কর দিয়ে আসছেন। ধারাবাহিক ভাবে সরকারকে আয়কর প্রদান করায় এবছর তিনি কুড়িগ্রাম জেলার শ্রেষ্ট করদাতা হিসেবে ‘কর বাহাদুর’ স্বীকৃতি পেয়েছেন। আলাপকালে তিনি জানান, একসময় আনন্দ বিড়ি নামে একটি বিড়ি তৈরির ফ্যাক্টরি শুরু করলেও মানুষের স্বাস্থ্যহানির কথা ভেবে পরে তা বন্ধ করে দেন।

এরপর তিনি খাদ্য অধিদফতরের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন। প্রতিষ্ঠা করেন আনন্দ ফ্লাওয়ার মিল। নিজের পাশাপাশি ছোট ছেলে এরশাদুল হক ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও ব্যবসার কাজে যুক্ত করেন। এখন তার পরিবারের ৯ জন সদস্য প্রতিবছর সরকারকে কর দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

জেলার কর বাহাদুর পরিবারের স্বীকৃতি পেয়ে কেমন লাগছে জানতে চাইলে ময়েজ উদ্দিন সরকার বলেন,‘স্বীকৃতি পাওয়া অবশ্যই আনন্দের। তবে পুরস্কারের আশায় কর দেই না, রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে সরকারকে কর দেই। যখন মানুষ কর দেওয়ার ভয়ে লুকিয়ে ব্যবসা করতো তখন থেকে কর দেই।’

সবাই মিলে কর দিলে বাংলাদেশ সত্যিকারের সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন কুড়িগ্রামের কর বাহাদুর পরিবারের প্রধান আলহাজ্ব মো. ময়েজ উদ্দিন সরকার। আলাপকালে সব ব্যবসায়ীদের প্রতি কর প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কথা হয় ময়েজ উদ্দিন সরকার এর ছোট ছেলে মো. এরশাদুল হকের সঙ্গে। তিনি জানান, ছোট একটি মুদির দোকান থেকে ব্যবসা শুরু করা তাদের পরিবার এখন কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। অটো ফ্লাওয়ার মিল ছাড়াও বর্তমানে তাদের সেমাই তৈরির কারখানা, খাদ্য অধিদফতরের ডিলারশিপ, পরিবহন ব্যবসা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কর দেওয়া প্রসঙ্গে এরশাদুল হক বলেন, ‘একসময় কর দিতে গেলে কর কমিশানারের কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাতেন। ফলে জটিলতার ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী কর দিতে আগ্রহী হতেন না। আবার অনেকে মনে করেন আয়কর দিলে আর্থিক ক্ষতি হয়, এটা ভুল ধারণা। ইনকাম ট্যাক্স ফাইল খুললেই উপকার।’ আয়কর প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের মনোভাব পরিবর্তন করা দরকার বলে মনে করেন কর বাহাদুর পরিবারের এই সদস্য।

সরেজমিনে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলায় তাদের চেয়ে অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার থাকলেও সেসব পরিবার এমন স্বীকৃতি পাননি। এ তথ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে এরশাদুল হক বলেন, ‘আমি মনে করি সব ব্যবসায়ীর কর দেওয়া উচিত। এতে করে রাষ্ট্রের উন্নতি হবে, আর রাষ্ট্রের উন্নতি হলে ব্যবসারও উন্নতি হবে, উন্নতি হবে ব্যবসায়ীদের।’

জেলা উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জেলায় এক হাজার ৩৩৩টি রিটার্ন জমা হয়েছে যাতে মোট ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ১০১ টাকা কর সংগ্রহ হয়েছে। এছাড়াও নতুন ৩৩টি ইটিআইএন তালিকাভুক্ত হয়েছে।

জেলা উপ-কর কমিশনার সুমন বর্মন জানান, ‘জেলার সব ব্যবসায়ীদের আয়করের আওতায় আনতেহলে জনবল বাড়ানো প্রয়োজন। জনবল সংকট এবং নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। ফলে জেলার সব ব্যবসায়ীদের আয়করের আওতায় আনা এখনও সম্ভব হয়নি।

কুড়িগ্রামের দুইটি সার্কেলের পাশাপাশি লালমনিরহাট সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তা আরও জানান, কুড়িগ্রামের দুইটি সার্কেলের প্রতিটিতে ১০ জন করে অনুমোদিত সদস্য থাকার কথা থাকলেও উলিপুর সার্কেলে রয়েছে মাত্র তিনজন এবং কুড়িগ্রাম সার্কেলে রয়েছে মাত্র পাঁচ জন সদস্য। জনবল সংকট পূরণ করতে পারলে আগামীতে জেলায় আরও অনেক ব্যবসায়ীকে আয়করের আওতায় এনে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

More News Of This Category