1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল!

মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) ভালো করছেন না? ভাইভা বোর্ডে নার্ভাসনেস এর কারণে চাকরিটা বারবার হাতছাড়া হচ্ছে? মেধাবী শিক্ষার্থী হয়েও অথবা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই ভাইভা বোর্ডে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করার ফলে হারাচ্ছেন কাঙ্ক্ষিতচাকরিটি।ভাইভা বোর্ডে যারা পরীক্ষা নেন, স্বাভাবিকভাবেই তারা নানা বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

শুধুমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে তাই অনেক সময় চিড়া ভিজে না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি একজন ব্যক্তির স্মার্টনেস, আকর্ষনীয় বাচনভঙ্গী, নিজেকে উপস্থাপন কৌশল, উচ্চারণ- এ বিষয়গুলো কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অনেকেই ভাইভা বোর্ডে ঢুকে নিজের অজান্তেই নিজেকে অযোগ্য প্রমাণ করে বসেন। সেক্ষেত্রে নিয়োগকর্তারা সৌজন্যমূলক দু-একটি প্রশ্ন করেই তাকে বিদায় করে দেন। এ রকম পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিজেকে যোগ্য উপস্থাপন করার জন্য জেনে নিন কিছু কৌশল:

জীবনবৃত্তান্ত ভালো হওয়া চাই: ভাইভা বোর্ডে নিজেকে উপস্থাপনের আগে জীবনবৃত্তান্ত উপস্থাপন করার প্রয়োজন হতে পারে।জীবনবৃত্তান্ত তৈরির সময় তাই কৌশলী হতে হবে।জীবনবৃত্তান্তের প্রথম দিকে ভালো অর্জনগুলো উল্লেখ করতে হবে। দরকারী সব তথ্য যেন অবশ্যই থাকে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। বানান ও শব্দ প্রয়োগে সতর্ক থাকতে হবে।

জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে একটি ফরওয়ার্ডিং লেটার সংযুক্ত করতে হবে। কোনোভাবেই নিজেকে জাহির করতে গিয়ে মিথ্যে তথ্য উপস্থাপন করা উচিৎ নয়। নিয়োগের পরেও যদি আপনার মিথ্যে তথ্যটি নিয়োগকর্তাদের নজরে আসে, তাহলে পরবর্তীতে চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

দরকারি কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন: ভাইভা বোর্ডে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। চাকরির আবেদনের সময় এসব কাগজপত্র দিতে হয়, তাই এসব কাগজপত্র নিয়োগদাতাদের কাছে আগে থেকে থাকলেও সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া উচিত। ভাইভা বোর্ডের সদস্যরা যেকোনো সময় সংশ্লিষ্ট যে কোনো কাগজ চাইতে পারেন।

এ ছাড়া সঙ্গে একটি কলম, সাদা কাগজ, জীবনবৃত্তান্ত ও ছবি রাখুন। এসব রাখার জন্য ভালো মানের রুচিসম্মত একটি ব্যাগ বা ব্রিফকেস সঙ্গে রাখতে পারেন। তবে একটি বিষয় সচেতন থাকা জরুরি, ভাইভা দিতে ঢুকে হাতের ব্যাগ টেবিলের ওপর না রেখে পাশে কোথাও রাখা উচিত।

ক্লান্তিভাব ঝেড়ে ফেলুন: ভাইভা দেওয়ার সময় আপনার মধ্যে যেন কোনো প্রকার ক্লান্তিভাব না থাকে সেদিকে লক্ষ রাখুন। কেউ কেউ নির্দিষ্ট সময়ের ঠিক আগ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে ভাইভা বোর্ডে এসে উপস্থিত হওয়ার কারণে শরীর ঘামে একাকার হয়ে যায়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত আধাঘণ্টা আগে ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত হয়ে নিজেকে প্রাণবন্ত করে তুলুন।

প্রয়োজনে হাত-মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। অনেকে সারা রাত জেগে বা গভীর রাত পর্যন্ত পড়ালেখা করে সকালে ভাইভা দিতে আসেন। এতে চেহারায় ক্লান্তির ছাপ থাকে। নিজেকে সতেজ করে উপস্থাপনের জন্য ভাইভার আগের রাতে ভালো ঘুম খুব জরুরি। তাই বেশি রাত না জেগে ঘুমিয়ে পড়ে সকালে ভালোভাবে গোসল করে ভাইভা বোর্ডের উদ্দেশে রওনা হোন।

নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকা: অনেকেই নিদিষ্ট সময়ের পরে সাক্ষাৎকার বোর্ডে এসে হাজির হন। সময়মতো আসতে না পারাটাই আপনার অযোগ্যতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। ভাইভা বোর্ডে কোনোক্রমেই দেরি করা যাবে না। দেরিতে এলে নিয়োগকর্তারা ভাইভা নাও নিতে পারেন বা ভাইভার আগেই বাদ দিয়ে দিতে পারেন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক: নিজেকে পরিপাটিভাবে উপস্থাপন করার গুরুত্বও অনেক। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, শালীন ও মার্জিত পোশাক পরে ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত হতে হবে। পোশাকই কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্বের পরিচয় দেবে।

প্রশ্নকর্তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিন: ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রবেশের সময় সালাম দিন এবং ঢুকবেন কিনা অনুমতি নিন। প্রবেশের পর অনুমতি না নিয়েই বসে পড়বেন না। অনেকে কথা বলার সময় হাত-পা নাড়াচাড়া করেন। ভাইভা বোর্ডে কখনোই এ রকম করবেন না। যখন যে ব্যক্তি আপনাকে প্রশ্ন করবেন, তার দিকে তাকিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ভাইভা বোর্ডে যিনি প্রধান হিসেবে থাকেন, অনেকেই শুধু তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিয়ে থাকেন। এটা মোটেই সঠিক নয়।

আঞ্চলিকতা পরিহার করুন: ভাইভার সময় কথা বলার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যেন আঞ্চলিক টান না এসে যায়। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলাটাও জরুরি। এ জন্য আগে থেকেই শুদ্ধ ভাষায় কথা বলার অভ্যাস করতে হবে। ইংরেজি বলার সময়ও উচ্চারণের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা নিন: যে প্রতিষ্ঠানে ভাইভা দিতে যাচ্ছেন, তার সম্পর্কে যথাসম্ভব জেনে নিতে হবে। যদি সম্ভব হয়- ভাইভা বোর্ডে কারা কারা থাকবেন, সে সম্পর্কেও জেনে নেওয়া ভালো।

ধূমপান করে যাবেন না: ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের আগে কোনোক্রমেই ধূমপান করবেন না। ভাইভার আগে ধূমপান থেকে বিরত থাকাটা হবে বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। আপনি যদি ধূমপান করে আসেন আর ধূমপানের কারণে আপনার মুখ থেকে যদি সিগারেটের গন্ধ বের হতে থাকে, তবে ভাইভা বোর্ডে যারা থাকবেন তারা বিষয়টি সহজভাবে নেবেন না। এটিই আপনার অযোগ্যতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া অনেকের পান খাওয়ারও অভ্যাস রয়েছে। সেক্ষেত্রে এটিও পরিহার করতে হবে।

সংক্ষেপে ও হাসিমুখে উত্তর দিন: ভাইবা বোর্ডে যে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, শুধু সে বিষয়েই উত্তর দিতে হবে। বেশি কথা বলা বা অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয়কে টেনে আনা ঠিক হবে না। আবার গোমড়ামুখে বসে থাকলেও কিন্তু তা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্যরা বেশি কথা বলা যেমন পছন্দ করেন না আবার গোমড়ামুখের মানুষকেও পছন্দ করবেন না।

আর ইন্টারভিউ বোর্ডে একটি বিষয় মেনে চলার চেষ্টা করুন, তা হলো সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় হাসিমুখে উত্তর দিন। তবে অকারণেও কিন্তু আবার হাসা যাবে না। আর একটি বিষয়, সব প্রশ্নেরই যে উত্তর জানা থাকবে তা কিন্তু নয়। না পারলে বিনীতভাবে বলতে হবে- সরি স্যার, পারছি না।

উত্তেজিত হওয়া যাবে না: ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীর মানসিক স্থিতিশীলতা, সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা- এসব বিষয় যাচাইয়ের জন্য অনেক সময় অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। এ সময় কোনোক্রমেই উত্তেজিত হওয়া যাবে না। অনেক সময় প্রার্থীর মানসিকতা যাচাইয়ের জন্য একসঙ্গে অনেকেই প্রশ্ন করে বসেন, এমনকি অনেক সময় বিব্রতকর প্রশ্নও করা হয়। এ সময় কোনোক্রমেই মাথা গরম না করে সবকিছু সহজভাবে নিতে হবে এবং শান্তভাবে তাদের সব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

বিনীতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করুন: ভাইভা বোর্ডে সব প্রশ্নের উত্তর বিনীতভাবে দিতে হবে। ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সোজা হয়ে বসতে হবে। চেয়ারে হেলান দিয়ে বসাটা ঠিক হবে না। এতে চাকরিপ্রার্থী সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হতে পারে। ভাইভা শেষে হাত মেলাতে পারেন, তবে সেটা পরিস্থিতি অনুযায়ী। অনেকেই স্মার্টনেস দেখাতে গিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। নিজেকে ওভারস্মার্ট ভাবা ঠিক নয়। সুন্দর, সাবলীল ও বিনীতভাবে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই যোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ দেখানো যেতে পারে।

মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না: ইন্টারভিউ বোর্ডে কখনোই নিজের যোগ্যতার বিষয়ে কোনো মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। কোনো মিথ্যা তথ্য আপনার জন্য সমূহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে না হয় চাকরি হলো, এ ক্ষেত্রে পরে আপনার সমস্যা হবে। সেটি প্রকাশ পেলে আপনার প্রতি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের আর কোনো বিশ্বাস থাকবে না।

এমনকি আপনার চাকরিও চলে যেতে পারে। আর একটি বিষয় আগে থেকেই জেনে নিতে হবে, চাকরির ক্ষেত্রে আপনার দায়িত্ব কী কী হবে ও বেতনের কাঠামো কেমন হবে, বেতনভাতা নিয়ে তর্ক না করাই ভালো। তবে এটাও বলা যাবে না, আপনারা ‘যা দিবেন তাই’। এ ক্ষেত্রে এটি দুর্বলতার প্রকাশ হতে পারে। আর ভাইভা বোর্ড থেকে বেরোনোর সময় অবশ্যই সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে বেরোতে হবে।

More News Of This Category