1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

সফলতা পেতে বৃত্তের বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে হবে

মানুষ মাত্রই সাফল্য প্রত্যাশী। কিন্তু দিন শেষে দেখা যায় সফল মানুষের চেয়ে ব্যর্থদের সংখ্যাই বেশি। সফলতা লাভের জন্য সকলেই কম-বেশি পরিশ্রম করেন। কিন্তু কেউ কেউ দ্রুত সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে যান, আবার অনেকেই ব্যর্থতার বৃত্ত ছেড়ে বের হতে পারেন না। আজকে জীবনে সফলতা অর্জনের উপায় সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিয়ে একটু আলোচনা করার চেষ্টা করছি।

১. সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সময়ের সঠিক ব্যবহার: সাফল্যের পূর্বশর্ত হচ্ছে সময়ের যথাযথ ব্যবহার। একমাত্র সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই সাফল্যের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। এজন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহামূল্যবান সময়কে পরিকল্পনামাফিক কাজে লাগাতে হবে। প্রতিটি মিনিট ব্যয় করার পূর্বে এর সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে ভেবে দেখা প্রয়োজন।

একজন সফল মানুষ দিনে যতটুকু সময় পান, ব্যর্থ একজন মানুষও ঠিক ততটুকু সময় পান। সফল মানুষজন নিজেদের সময়ের যথাযথ ব্যবহার করেন বলেই অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে সময়ের অপচয়কারীগণকে সারাজীবন ব্যর্থতার বোঝা বয়ে বেড়াতে হয়।

২. সফল মানুষেরা আত্মবিশ্বাসী থাকেন: আত্মবিশ্বাস কাজের গতি বৃদ্ধি করে এবং ছোটখাট অনাকাঙ্ক্ষিত বাধাগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখে। এজন্য সবসময় আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে এবং প্রতিটি কাজ পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সম্পাদনের চেষ্টা করতে হবে। দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ শুরু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাফল্য অনিবার্য।

৩. বৃত্তের বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে হবে: সাম্প্রতিক সময়ে “থিংক আউটসাইড দ্যা বক্স” কনসেপ্টটি খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সবাই এখন বুঝতে পারে যে, সফলতা পেতে হলে চিন্তা-ধারা এবং কাজকর্মে সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। অন্য দশ জন লোক যেভাবে চিন্তা করে, সফল ব্যক্তিদের চিন্তাধারা তাদের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম হয়। একটিমাত্র ভিন্নধর্মী আইডিয়াই আপনার সফলতা অর্জনের উপায় হতে পারে। তাই সাফল্যের জন্য উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

৪. সাফল্যের জন্য প্রয়োজন দায়িত্বশীল ভূমিকা: অনেকেই দায়িত্ব নিতে ভয় পান। অথচ দায়িত্ব ছাড়া কাজ করলে সাফল্যের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। এজন্য ছোট-বড় সকল কাজ পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে সম্পাদন করার চেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে- দায়িত্বের অবহেলা করা মানে হচ্ছে স্বপ্ন ও সাফল্য থেকে দূরে সরে যাওয়া।

৫. ঝুঁকি নিতে ভয় পাওয়া যাবে না: সাফল্য আর ঝুঁকি- একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। তাই ঝুঁকি নিতে ভয় পাওয়া যাবে না। তবে যেকোনো বিষয়ে হুট করে ঝুঁকি নিয়ে নিলে ব্যার্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য ঝুঁকি নেওয়ার আগে অবশ্যই ভালভাবে রিসার্চ এবং এনালাইসিস করে নিতে হবে।

৬. ঝামেলা এড়িয়ে চলার কৌশল শিখতে হবে: সাফল্য পেতে হলে উটকো ঝামেলা এড়িয়ে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক সমস্যা, পলিটিক্স সহ আরও বহুবিধ বিষয় রয়েছে যেগুলো সাফল্যের কাছে পৌঁছাতে বিলম্ব করিয়ে দিতে পারে। এজন্য একান্ত বাধ্য না হলে কোনো বাড়তি ঝামেলায় নিজেকে জড়ানো উচিৎ নয়।

৭. সফলতার জন্য সঙ্গী বাছাইয়ে সতর্ক থাকতে হবে: সঙ্গ দোষে লোহা জলে ভাসে- তাই সঙ্গী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। উৎসাহী, উদ্যমী, সৃজনশীল লোকদেরকে সঙ্গী হিসেবে পেলে লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হয়। একজন অলস ব্যক্তি তার সঙ্গীর জীবনে সাফল্য অর্জনের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সবসময় যোগ্য লোকদের সাথে চলাফেরা করা ও সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন।

৮. ব্যার্থতাকে ভয় পা‌ওয়া যাবে না: সাফল্য পেতে গেলে ব্যর্থতাকে মোকাবেলা করতেই হবে। এজন্য ব্যর্থতাকে হিসাবের বাইরে রেখে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যেত হবে। একটি কাজে ব্যর্থ হলেও সেই ব্যর্থতা থেকে নতুন অনেক কিছু জানা হয়। আর ব্যর্থতা থেকে নেওয়া শিক্ষাই মানুষকে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে উঠতে সাহায্য করে।

৯. ভাললাগার কাজকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: যে কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং ভালোলাগা রয়েছে, যে কাজ করতে আনন্দ পাওয়া যায়, সেই কাজটি গুরুত্ব দিয়ে করা প্রয়োজন। কাজ ছোট হোক বা বড় হোক সেটি কোনো ব্যাপার না। পছন্দের বিষয়ে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করতে পারলে অবশ্যই সফলদের খাতায় নাম লেখানো সম্ভব। কাজের প্রতি ভালবাসা থাকলে দক্ষতা আসবেই। আর দক্ষতা মানেই নতুন কিছুর সম্ভাবনা।

১০. পরিশ্রমীরাই সফল হন: “পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি” এই প্রবাদ বাক্যটি অনেকের কাছে বেশ পুরানো মনে হতে পারে। কিন্তু একবার গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন তো- আসলেই পরিশ্রম ছাড়া সাফল্য পাওয়া সম্ভব? আর এটা তো জানা কথা যে, যারা সফল হন তাদেরকেই সৌভাগ্যবান হিসেবে বিচেনা করা হয়। তাই সফলতা অর্জনের উপায় নিয়ে বলতে গেলে পরিশ্রমকে বাদ দেওয়ার কোনো উপায় নেই।

১১. স্বপ্ন দেখতে হবে: স্বপ্নই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। তাই সাফল্যের জন্য বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, স্বপ্নের মাঝে বসবাস করতে হবে। বড় স্বপ্ন দেখে সেটি বাস্তবায়নের জন্য রাত-দিন কাজ করা প্রয়োজন। স্বপ্ন দেখে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে অবস্থার কোনো পরিবর্তন আসবে না। এজন্য স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে সেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা শুরু করে দেওয়ার বিকল্প নেই।

১২. সফলতার উপায় হিসেবে নতুনের ভয়কে জয় করতে হবে: আধুনিক যুগ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মাঝ দিয়ে যাচ্ছে। নিত্যনতুন প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলছে। এমন সমাজে বসবাস করে নতুনকে ভয় পাওয়া মানে সাফল্যের উল্টো পথে হাঁটা। এজন্য নতুনকে সাদরে গ্রহণ করতে হবে এবং নিজে আরও নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে হবে।

১৩. সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া সাফল্য পাওয়া কঠিন: সফলতা লাভের জন্য কাজের পূর্বে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কোন কাজটি কেন করা হচ্ছে সেটি জানা না থাকলে সকল পরিশ্রমই বৃথা যেতে পারে। এজন্য প্রথমেই লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হকে। এরপর সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে।

১৪. ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে: সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করার অভ্যাস থাকতে হবে। কোনো উদ্যোগ নেওয়ার সময় কি কি ক্ষতি হবে সেটি বিবেচনার বাইরে রেখে কি কি পাওয়া যাবে সেটি নিয়ে চিন্তা করতে হবে। নেতিবাচক চিন্তা সাফল্য অর্জনের পথকে মন্থর করে রাখে। তাই সকল ক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

১৫. ধৈর্য ধারণ করতে হবে: প্রতিটি সফল মানুষই ধৈর্যশীল প্রকৃতির হয়ে থাকেন। আর এই ধৈর্যকেই তারা সাফল্যের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করেন। এজন্য জীবনে সফল হতে হলে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে।

১৬. সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে: সফল হতে হলে সমালোচনার তিক্ত আঘাত সহ্য করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোগী ব্যক্তিকে নিয়ে লোকজন সমালোচনা করবে, বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করবে, এটাই স্বাভাবিক। যারা প্রথমে সমালোচনা করে, তারাই পরবর্তীতে সাফল্যের মালা পরিয়ে দেয়। তাই শুরুতে সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে এটিকে পাশ কাটিয়ে যেতে হবে। এটিকে সাফল্যের জন্য উৎসাহ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

১৭. ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে: কাজ করতে গিয়ে ভুল হবেই। কখনোই ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হতাশ হওয়া বা ভেঙ্গে পড়া যাবে না। একটি ভুলের ফলে কি কি ক্ষতি হলো তার হিসাব না করে কি কি নতুন বিষয় শিখা গেল তার হিসাব করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভুলের মাঝ দিয় চলতে চলতেই মানুষ এক সময় ঠিকই সাফল্যের দরজায় পৌঁছে যায়।

১৮. সফল মানুষজনকে অনুসরণ করতে হবে: সফল লোকদের গল্প পড়তে হবে। তাদের ব্যার্থতার কাহিনী শুনতে হবে। সংশ্লিষ্ট সেক্টরের সফল ব্যক্তিদের ইন্টারভিউ শুনতে হবে, তাদের লেখা পড়তে হবে। তাদের জীবনের উত্থান-পতন এবং পালাবদলের বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে এবং সেগুলো নিজের জীবনের সাথে তুলনা করে দেখতে হবে। যারা সফল হয়েছেন, তাদের কাজের ফর্মুলা, রুটিন, পরামর্শ কাজে লাগাতে হবে। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

More News Of This Category