1. [email protected] : editorpost :
  2. [email protected] : jassemadmin :

সুপারশপ ব্যবস্থাপনায় দশ পরামর্শ!

বাংলাদেশে ২০ বছর আগে সুপারশপ বলতে গেলে একটিও ছিল না। আর এখন এমন বড় শহর খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে একটিও সুপারশপ নেই। বর্তমানে দেশের কয়েক লাখ তরুণ-তরুণী সুপারশপে বিক্রয়কর্মী ও কাস্টমার সার্ভিস অফিসার পদে নিয়োজিত আছেন। কেউ পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ করছেন। কেউ কেউ ফুলটাইম। সুপারশপ ব্যবস্থাপনার কাজ হলেও আন্তর্জাতিকভাবে এটা রিটেইল স্টোর ম্যানেজমেন্ট হিসেবেও পরিচিত। যাঁরা এ পেশায় মাত্র এসেছেন বা আসতে চাচ্ছেন তাঁদের জন্য দশ কথা।

এক: সুপারশপে কাজ করতে হলে আপনাকে সব রকম পরিস্থিতিতে কাজ করার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যদি অফিসের টিপটপ বাবুটি হয়ে কাজ করতে চান, তাহলে সুপারশপে কাজ আপনার জন্য নয়। এখানে যেমন কেতাদুরস্ত হয়ে ক্রেতা সেবা দিতে হবে আবার ডাস্টার হাতে নিয়ে সেলফ পরিষ্কার করার মানসিকতাও থাকতে হবে।

দুই: কাস্টমার বাজার করার পর আপনি কি তাঁর বাজারের ব্যাগটি গাড়িতে তুলে দিতে তৈরি আছেন? যদি মনে করেন এ কাজটি নিচু মানের, তাহলে আর যাই হোক রিটেইল স্টোরের কাজ যে আপনার জন্য নয়, সেটা বলা যায়।

তিন: যাঁরা কাস্টমারদের সেবা দিতে সদা হাসিমুখে তৈরি থাকতে পারেন, তাঁরা এগিয়ে আসুন। ধৈর্য ধরে ক্রেতার অভিযোগ, চাহিদা, পরামর্শগুলো (অযৌক্তিক হলেও) শোনার আগ্রহ থাকতে হবে। জানতে হবে পরিস্থিতি সামলানোর উপায় আর দ্রুতগতিতে কাজ করার অভ্যাস।

চার: সুপারশপে কাজ করার জন্য চাই দলগত কাজ করার মানসিকতা। কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো বুদ্ধিমত্তা। অন্যকে কাজে সাহায্য করার মতো উদারতা। একে অন্যের মধ্যে বোঝাপড়া না থাকলে সুপারশপে কাজ করা খুব কঠিন।

পাঁচ: যেহেতু দীর্ঘ সময় ধরে সুপারশপ খোলা থাকে। শিফটিং ডিউটি করতে হয়। সপ্তাহে প্রতিদিন খোলা থাকে বলে একেকজনের ছুটি হয় একেক দিনে। ফলে রোস্টার মেনে দায়িত্ব বণ্টন করার পরে মাঝেমধ্যে প্রয়োজনে এ কাজের রুটিন বদলাতে হয়। কখনো স্টোরের প্রয়োজনে, কখনো নিজের বা সহকর্মীর প্রয়োজনে। আপনার কাজের সময় সম্পর্কে অনেক নমনীয় থাকতে হবে।

ছয়: বাংলাদেশে এই পেশা নতুন হলেও পৃথিবীতে এ পেশা ২০০ বছরের পুরনো। ফলে এ পেশায় উন্নতির জন্য ইংরেজিতে ভালো ভালো বই পাওয়া যায়। নিজের ক্যারিয়ার নির্বাচন করার আগে এমন কিছু বই পড়ে নিতে পারেন। ইন্টারনেটে অনেক তথ্য পাওয়া যায়।

সাত: ক্যারিয়ার বাছাই বা চাকরিতে যোগদানের আগে কিছু সুপারশপে গিয়ে সময় কাটান। দেখুন কিভাবে একটি সুপারশপ চলে। কী কী ধরনের কাজ করতে হয় সেখানে। সুযোগ পেলে কথা বলতে পারেন দুই-একজনের সঙ্গে। ধারণা নেওয়ার জন্য এটা উত্তম।

আট: পত্রপত্রিকার বিজ্ঞাপন ছাড়াও চাকরি খোঁজার জন্য সরাসরি সুপারশপের অফিসে বা মানবসম্পদ বিভাগে গিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারেন। সুপারশপে চাকরি পাওয়া তুলনামূলক সহজ। কারণ অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি করতে আসেন। পরীক্ষা এলে চাকরি ছেড়ে দেন। কেউ কেউ পছন্দসই পেশায় কাজ না পেয়ে রিটেইল স্টোরে কাজ করতে থাকেন। পছন্দের চাকরি পেয়ে গেলে চলে যান। আছে আরো নানা কারণ। ফলে কিছুদিন পরপরই পদ খালি হয়।

নয়: যেহেতু আমাদের দেশে এই পেশা বলতে গেলে নতুন, তাই যাঁদের আগ্রহ আছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আপনি যদি চাকরি পেতে চান, তাহলে তিনটি যোগ্যতা খুব কাজে দেবে। ক. আপনি যদি কথাবার্তায়, চালচলনে, পোশাকে-ব্যক্তিত্বে স্মার্ট হন, খ. কাজকে যদি ছোট করে না দেখেন, গ. আপনি যদি যেকোনো সময়ে, যেকোনো শিফটে কাজ করতে রাজি থাকেন। এই তিনটি যোগ্যতা যদি আপনার থাকে, তাহলে চাকরি হওয়ার ৮০ শতাংশ নিশ্চয়তা রয়েছে।

দশ: আপনি যদি এ পেশায় ইতিমধ্যে থেকে থাকেন তাহলে পরামর্শ রইল টিকে থাকার। সামনে দিন আসছে, যখন স্টোর চালানোর জন্য যোগ্য ব্যবস্থাপক প্রয়োজন হবে। সারা বাংলাদেশে কয়েক লাখ মানুষ এ পেশায় নিয়োজিত থাকলেও যোগ্য ব্যবস্থাপক আছেন খুবই কম। সুতরাং বাজারে যোগ্য ও দক্ষ সুপারশপ ব্যবস্থাপকের চাহিদা খুবই। এ চাহিদা পূরণে আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

More News Of This Category